দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাহাড়ে ওঠার আগে সব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিন তরুণ। পথ কোনটি, সঙ্গে কী খাবার ও পানি নিতে হবে এসব জানতে ভরসা করেছিলেন গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী জেমিনাইয়ের ওপর। কিন্তু সেই পরামর্শই শেষ পর্যন্ত তাদের বড় বিপদের মধ্যে ফেলে দেয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্ট শাস্তায় চূড়ায় ওঠার পরিকল্পনা ছিল তিনজনের। শনিবার ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তাঁবু গড়েন তারা। পরদিন রোববার ভোর ৩টায় ছোট ব্যাগ নিয়ে চূড়ার উদ্দেশে রওনা হন। পরিকল্পনা ছিল আট ঘণ্টার মধ্যে ওঠা-নামা শেষ করার।
কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোয়নি। দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলেও তারা তখনও ফেরেননি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিচে নামার সিদ্ধান্ত নেন। তখন পাহাড়ে নেমে এসেছে অন্ধকার।
নামার পথে প্রায় এক ঘণ্টা পর দিক নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন তারা। সাহায্যের জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের জরুরি নম্বরে ফোন করেন। কিন্তু এরপরও পথ ঠিক রাখতে পারেননি। নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে ঢুকে পড়েন মাড ক্রিক ক্যানিয়নে।
এর মধ্যেই আরও বিপদ ঘটে। দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান। এরপর তিনজনই দুর্গম গিরিখাতে আটকা পড়ে যান। রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে বের হওয়ার উপায় না থাকায় মাড ক্রিক ক্যানিয়নের খাড়া অংশেই রাত কাটাতে বাধ্য হন তারা।
সকালে সেখানে পৌঁছে যায় ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের আরোহন উদ্ধারকারী দল। পরে তিন তরুণকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরে আসেন তারা।
সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ওই তিনজন রোজভিল, ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং পাহাড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারা ছিলেন অনভিজ্ঞ। পথ ও সঙ্গে নেওয়ার খাবার-পানি সম্পর্কে তারা জেমিনাইয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন। কিন্তু জেমিনাই তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার পরিকল্পিত অভিযান শেষ পর্যন্ত কয়েক দিনের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পরিণত হয়।
ঘটনার পর মাউন্ট শাস্তায় ওঠা ব্যক্তিদের দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। এতে দিনের আলো থাকতে পাহাড় থেকে নেমে আসার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।
পাশাপাশি শুধু মুঠোফোন বা জিপিএসের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত নিজেদের অবস্থান ও পথ যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযানের আগে স্থানীয় ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের মাউন্ট শাস্তা রেঞ্জার স্টেশনে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শেরিফের কার্যালয় বলেছে, ক্লিয়ার ক্রিক রুট প্রযুক্তিগত পর্বতারোহণের পথ না হলেও সেখানে শারীরিক সক্ষমতা ও যথেষ্ট প্রস্তুতি প্রয়োজন। আঘাত, খারাপ আবহাওয়া কিংবা পরিকল্পনার বাইরে রাত কাটানোর মতো পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়। আর পথ হারিয়ে মাড ক্রিকের মতো বিপজ্জনক এলাকায় চলে গেলে গুরুতর দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই পাহাড়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সেটির তথ্যই একমাত্র ভরসা হওয়া উচিত নয়—এই ঘটনার পর সেই সতর্কতাই আবার সামনে এসেছে।
/অ